- শুধু বিশ্বাসই করে না, একদম মনে প্রাণে বিশ্বাস করে!-- তুমি বিশ্বাস করো?- পাগল! এগুলো মানুষকে ঠকানোর ব্যবস্থা!-- মানুষ যদি ঠকবেই, এরকম পাগলের মত বিশ্বাস করবে কেন? নিশ্চয়ই বিশ্বাস করার মত কিছু না কিছু পেয়েছে!
- কাগজে রক্তে লিখে জানাচ্ছে যে, এটা নাকি জিনের লেখা! সেটাতেই বুঝা যাচ্ছে সব ধাপ্পাবাজি।-- ধাপ্পাবাজি হতে যাবে কেন? আসলেই কি জিনে এটা লিখে রাখতে পারে না?- কি বলো, এ-ফোর সাইজের কাগজ, এগুলো খাতা কলমের দোকানে কিনতে পাওয়া যায়, জিন বানায় না! সেখানে যেই লেখা সেটাও ঐ লোকের বা তার সাগরেদদের কারোর!-- এর কি কোন প্রমাণ আছে? মানে কেউ কি দেখেছে যে, সেগুলো ঐ লোক নিজে লিখেছে?- না, তারা তো এত বোকা না যে সবার সামনে লিখবে! নিশ্চয়ই গোপনে লিখে রাখে।-- কিন্তু এগুলো যে জিন লিখে নাই, সেই ব্যাপারে কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছো! জিন যে লেখে নাই, সেই প্রমাণ কোথায়?- মানুষ বাদে তো আর কেউ সেই কাগজ বানাতে পারেনি, সেই কাগজে মানুষই লিখে! সবার সামনে যদি এরকম জিন বা অশরীরি কোন আত্মা বা অদৃশ্য কেউ লিখছে- দেখাতে পারলে না হয় বিশ্বাস করা যেত!-- আচ্ছা ধরলাম, সেই কাগজ ঐ ওঝাই বাজার থেকে কিনে আনে। তারপরে সেখানে লাল কালি বা মুরগীর রক্ত দিয়ে নিজেই লিখে। কিন্তু, এমন কি হতে পারে না যে, জিনই তাকে সমাধানটা দিয়েছে, সে কেবল সেটাই লিখে রেখেছে? তখনও তো এটাকে জিনের সমাধান বলা যেতে পারে।- কিন্তু, জিনই যে তাকে সমাধানটা দিচ্ছে, তার প্রমাণ কোথায়?-- তাহলে, জিন যে এই সমাধান দেয় নাই, তার প্রমাণই বা কোথায়?- বাহ, ওঝা দাবি করছে এটা জিনের সমাধান - তাহলে তাকেই প্রমাণ করতে হবে না? যেকেউই যেকোন কিছু একটা দাবি করে বসতে পারে! এখন যে দাবি করবে, তাকেই সেই প্রমাণটা করতে হবে, নাকি অন্যদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, সেই দাবিটা ভুল! যেমনঃ আমি যদি দাবি করে মানুষ আসলে অনেক দূরের একটা গ্রহ থেকে আসা প্রাণী, সেই গ্রহটা ধ্বংস হওয়ার আগে একটা যানে কিছু মানবশিশুকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিলো, সেখান থেকে পুরা পৃথিবী আজকের মানুষ ছড়িয়েছে। অন্যরা বিশ্বাস করবে কিভাবে? আমার কাছে, আমার দাবির প্রমাণ চাইলে আমি যদি বলি, তোমরাই প্রমাণ করো যে - মানুষতে শুরুতে দূরের অন্য কোন গ্রহ থেকে আসেনি, তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা।-- বুঝলাম, বেশ ভালো যুক্তি। তাহলে, ওঝাকেই এটা প্রমাণ করতে হবে। ওঝা যদি কোন প্রমাণ না দেয়, তাহলে লোকজন এটা কিভাবে বিশ্বাস করছে?- ঐ কাগজগুলোর নিচে লেখা থাকে - এই সমাধান জিনের দেয়া বা লিখা।-- বাহ! এই তো প্রমাণ হয়ে গেল!- এটা তো কোন প্রমাণ হলো না, যেকেউই লিখে দাবি করতে পারে- এটা জিনের লেখা! তাহলে কি সেটাকে প্রমাণ ধরা যাবে?-- তাই তো, তাহলে এই প্রশ্ন উঠছে না কেন?- ওঝার ঘরে আরেকটা বড় লেখা বাঁধাই করে রাখা আছে। সেখানে জিন বলেছে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা ওঝা মারফৎ তাকে জানানো হলে, সেই সঠিক সমাধান লিখে জানাবে!-- বেশ মজার তো! এমন অকাট্য প্রমাণকে খণ্ডাবে কি করে?- এটাও তো প্রমাণ নয়! এগুলোকে বলে সার্কুলার লজিক! মানে - এই লেখাটাও তো ওঝাই লিখে টাঙ্গিয়ে রাখতে পারে!
খুবই ইন্টারেস্টিং আলোচনা! আমি বললাম, আমি তোমাদের সাথে পুরাপুরিই একমত! কিন্তু, ঐ ওঝার পালিত জিনের কথা তোমরা ঠিকই অবিশ্বাস করছো, উড়িয়ে দিচ্ছো, কিন্তু এই দুনিয়ারই আরো বিশেষ বিশেষ কিছু বই আছে, যেগুলো মানুষের লিখা নয় বলে তোমরা বা দুনিয়ার একটা বড় অংশের মানুষ বিশ্বাস করো! সেই ক্ষেত্রে কি তোমরা কি একই যুক্তি দাও, নাকি এরকম যুক্তি শুনলে জবাব দেয়ার চেস্টা করো?
- বাহ রে! এইরকম মিথে লোকজন এখনো বিশ্বাস করে যায়, একটু বুদ্ধি-চিন্তা প্রয়োগ করলেই তো বুঝা যায় এসব কিচ্ছাকাহিনী বিশ্বাস করার মত নয়!-- বিশ্বাস করার মত না হলে, হাজার হাজার বছর ধরে এত এত মানুষ কেন এগুলোতে বিশ্বাস করছে?- মানুষ তো কত কিছুই বিশ্বাস করে, তাই না? আমার কাছে তো এই ভদ্রলোকের ব্যাখ্যাই অনেক বেশি যৌক্তিক মনে হলো!-- কোন ব্যাখ্যা?- এই যে, দেবতার বা ভগবানের সন্তান বলে কিছু নেই। ঋষি - মুনি - দেবতা বর দিলো, আর টপাটপ সন্তান পয়দা হলো, কিংবা এখানে ওখানে ভগবান বা দেবতার বীর্য - ঘাম - তেজ - জ্যোতি ইত্যাদি পড়লো, আর সন্তানের জন্ম হলো, এমন কাহিনীগুলোর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হচ্ছে- এসবই বিবাহ বহির্ভূত যৌন মিলনের ফলে জন্ম নেয়া সন্তান, কোন ক্ষেত্রে পিতৃ পরিচয়ের অভাবে মা সেই সন্তানকে ভগবানের সন্তান হিসেবে দাবি করেছে, কখনো মা-বাবা সন্তানকে পরিত্যাগ করলে সেটাকে ভগবানের বীর্য মাটিতে পড়ে জন্ম নেয়া ভগবানের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে! এই চলটা তো এখনো আছে, বিভিন্ন প্রস্টিটিউশনে জন্ম নেয়া বাচ্চাকে ঈশ্বরের সন্তান বা সন/ ডটার অব গড বলা হয়!-- কিন্তু, দেবতা/ ভগবানের বরে আসলেই কি কোন মানবী কোন পুরুষের সাথে যৌনমিলন বাদে সন্তান লাভ করতে পারে না? ভগবান যদি থেকেই থাকেন, এবং তিনি যদি সৃষ্টি - ধ্বংস এসব করতেই পারেন, তাহলে তার বীর্য মাটিতে পড়েই বা কেন সন্তান জন্ম নিতে পারবে না?- আমার তো মনে হয়, মাটিতে বিভিন্ন গাছের বীজ মাটিতে পড়লে চারা হয়, নতুন গাছ জন্ম নেয়, সেখান থেকেই মিথে মানুষ এরকম ভগবানের বীর্য মাটিতে পড়েই সন্তানের জন্মের বিষয়টা কল্পনা করে নিয়েছে! এই কাহিনীগুলোর বিভিন্ন দেবতা যেমনঃ ধর্ম, সূর্য, অশ্বিনীকুমার, শিব, বিভিন্ন ঋষি, মুনি - এদের সবাইই ছিল আসলে রক্ত মাংসের মানুষ, এবং পুরুষ মানুষ। তারাই এরকম বিভিন্ন নারীর সাথে যৌনমিলন করে তাদেরকে ফেলে চলে যেত, সেই যে সন্তান হতো সেগুলোকে ঈশ্বরের সন্তান হিসেবে অভিধা দেয়া হতো!-- কিন্তু, এমন ব্যাখ্যাও তো ধারণামাত্র। আসলেই এই মিথগুলো কেবল কল্পনা, বা বানানো গল্প তার প্রমাণ কি? মানে, শিবের বীর্য/ ঘাম/ জ্যোতি যে মাটিতে পড়েই আয়াপ্পান, ভৌম ও খুজের জন্ম হয়নি, কিংবা বিভিন্ন দেবতার সাথে যৌনমিলন বাদেই কেবল বরেই যে পঞ্চপাণ্ডবের জন্ম হয়নি, সেটা আমরা কিভাবে নিশ্চিত হচ্ছি? এমনটা যে হয়ই নি, তার কোন প্রমাণ আছে?- মানুষের ক্ষেত্রে (এবং সকল যৌনপ্রজননক্ষম প্রাণীর ক্ষেত্রেই) পুরুষ ও নারীর যৌনমিলন ছাড়া কি আদৌ সন্তান জন্ম নিতে পারে? আমাদের চারপাশে কি এমন কোন নারী আছে, যার গর্ভে কোন সন্তান এসেছে কোন রকম যৌনমিলন বা পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণূর মিলন বাদে? নারীর গর্ভ বাদে বা মা ছাড়া কেবল পুরুষের বীর্য দ্বারা কোনকালেই কি কেউ কি দেখেছে যে, কোন সন্তানের জন্ম নেয়া সম্ভব?-- এই কালে আমরা এরকম দেখিনি, কিন্তু কিভাবে দাবি করতে পারি যে, কোনকালেই এমন হয়নি? কোন এক কালে দেবতা বা ভগবানরা চাইলে এমন হতে পারে না? সেই সময়ে ভগবান ও দেবতারা, ঋষি - মুনিরা এভাবে বর দিতো, কিন্তু এখন দেয় না! এমনও কি হতে পারে না? সেকালের মানুষ এসব দেখেছে বলেই তো এমন কাহিনীগুলো তারা লিখে গিয়েছে, যুগে যুগে মানুষ তা বিশ্বাস করেছে। আজকে দেখি না বলে অতীতে কোনকালেই হয় না, এমনটা কি দাবি করা যায়?- কিন্তু, আজকে আমরা অনেক প্রাকৃতিক ঘটনার কার্যকরণ, পুরো প্রসেস সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা একসময়ের মানুষ জানতো না! যেমনঃ সন্তান জন্ম নেয়ার পুরো প্রসেসটা আমরা জানি। সেখান থেকেই তো বলতে পারি, একটা সন্তান জন্ম নেয়ার জন্যে বাবার শুক্রাণূ আর মায়ের ডিম্বাণূর মিলনে ভ্রুণের জন্ম হওয়া, সেই ভ্রুণকে মাতৃগর্ভে বড় হওয়া- এই ধাপগুলো আবশ্যক! এটা এখনকার জন্যে যেমন, তেমনি সুদূর অতীতেও, একদম মানুষের শুরু থেকে, এবং অন্যান্য যৌনজ প্রাণীর ক্ষেত্রেও আবশ্যক, নয় কি?-- ঠিক আছে, বুঝলাম! এই যুক্তি যদি ঠিক হয়, তাহলে দুনিয়ার অর্ধেকের বেশি মানুষ যে বিশ্বাস করে আজ থেকে ২০২৪ বছর আগে বাবা ছাড়াই একজন ত্রাতার জন্ম হয়েছিলো! তাদের অনেকে মনে করে- এই সন্তান সরাসরি ঈশ্বরেরই সন্তান, আবার অনেকে মনে করে - এই সন্তান ঈশ্বরের অলৌকিক ক্ষমতায় বাবা বাদেই নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া এক নবী বা প্রফেট! এই কাহিনী বা মিথের ক্ষেত্রেও কি উপরের যুক্তিগুলো সমান প্রযোজ্য? মানে, কথিত এই ঈশ্বর পুত্র বা ঈশ্বরের অলৌকিক ক্ষমতায় পিতার শুক্রানূ বাদেই জন্ম নেয়া কথিত নবী কি আসলেই কি অবিবাহিত নারীর গোপন প্রণয়ের ফসল নয়?